প্রতিদিন একই কাজ করতে থাকলে একটা সময় শরীর ও মন দুটিই ক্লান্ত হয়ে পড়ে
বর্তমান সময়ে পৃথিবী যেভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এতে যেমন ব্যক্তিপ্রধান লোকের কাজের চাপ বাড়ছে সেই সঙ্গে বাড়ছে তাদের একাকিত্বে ভোগার কারণ। এই একচ্ছত্র আধিপত্যের যুগে সবকিছুই যেন দ্রুত থেকে আরও দ্রুততর দিকে এগিয়ে যেতে চায়। দিনের ২৪ ঘণ্টা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার এই প্রবল উন্মাদনা মানসিকভাবে ক্লান্ত, বিপর্যস্ত করে তুলছে মানুষকে। ছোটকাল থেকেই এ দৌড়ের নেশা ধরিয়ে দেওয়া হয় সবাইকে। যার ফলে পুরো বিশ্বজুড়েই বেড়ে চলেছে অবসাদ, সেই সঙ্গে বাড়তি মানসিক ক্লান্তি ক্রমাগত আঘাত করছে সবাইকে।
অনেক সময় কাজের চাপে নিজের দিকে নজর দেওয়াটা দুষ্কর হয়ে উঠে। পাহাড় সমান কাজের সামনে দাঁড়িয়ে কেমন যেন ঝুঁকে পড়ে কাঁধ। দানা বাঁধে ক্লান্তি, ক্লান্তি থেকে একের পর এক দুশ্চিন্তা, সেই থেকে আরও ক্লান্তি।
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চান সবাই, কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই তা অনেক সময়ে সম্ভব হয় না। কিন্তু মানসিক সুস্থতার সঙ্গে তো কোনো রকম আপসও করা যায় না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে কীভাবে অতিরিক্ত কাজের চাপের মধ্যে কিছু সহজ উপায়ে মানসিক ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেই সহজ কিছু উপায়-
একাধিক কাজ করবেন না
একসঙ্গে একাধিক কাজ হাতে নিয়ে নিলে তা দিনের শেষে আপনার মাথায় আরও বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আপনার যতটা ক্ষমতা, তার থেকে বেশি দায়িত্ব বা কাজ না নেওয়াই ভালো হবে।
সংগীতের মধ্যে থাকুন
কাজ করার সময় বারবার কফি খেলে ধীরে ধীরে একটা আসক্তি হয়ে যায় কফির প্রতি। কিন্তু সংগীতের সঙ্গে সেই আসক্তি হলে ব্যাপারটা মন্দ হয় না। যখন বুঝছেন যে মানসিকভাবে আপনি বেশি তাড়াহুড়ো করতে পারছেন না, তখন খানিকটা চোখ বুজে আপনার পছন্দের গানটি চালিয়ে দিন। এর ফলে আপনার ক্লান্ত এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মন কিছুটা হলেও শান্ত হবে।
শ্বাসের কিছু সহজ ব্যায়াম করুন
বড় শ্বাস নিয়ে তারপর কিছুক্ষণ ধরে রেখে আস্তে আস্তে ছাড়ুন। এই পুরো পদ্ধতিটা দশবার করুন। এটে আপনার হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ এবং মানসিক অস্থিরতা দু’টোই অনেকটা কমে যাবে।
ঘুমের সঙ্গে আপস করবেন না
যতই কাজ থাকুক, সেই কাজের চাপ যেন কোনোভাবেই আপনার ঘুমের ওপর এসে না পড়ে। কাজের চাপের কারণে ঘুম কম হলে তা আপনার শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।
প্রয়োজন হলে রুটিন মেনে চলুন
যদি একান্তই সমস্যা হয় কাজের জন্যে, তাহলে রুটিন বানিয়ে সেটা মেনে চলতে পারেন। অনেক সময় কাজের বাড়তি চাপ আপনার দিনের অনেকটা সময়ের ওপর চেপে বসে, তখন আপনার দিনের বাকি কাজের জন্য সময় কমে যায়। সেই থেকে শুরু হয় তাড়াহুড়ো এবং যথারীতি শারীরিক এবং মানসিক ক্লান্তি।
নিজেকে সময় দিন
শত কাজ থাকলেও নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নিন। আপনার যেটা করতে ভালো লাগে তাই করুন। গান শোনা, গান গাওয়া, কোথাও কিছুক্ষণের জন্য হেঁটে আসা, বই পড়া এমন যে কোনো ধরনের কিছু একটা কাজ করুন যেটা একান্তই আপনার নিজের। এখানে কোনো কাজ সময়ে জমা দেওয়ার চিন্তা নেই, বা কোনো রকম তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। এই সময়টা শুধুই আপনার। কোনোমতে এই সময়ের সঙ্গে আপস করবেন না।